Fish Oil (ফিশ অয়েল)
ফিশ অয়েল বা মাছের তেল হলো সামুদ্রিক মাছের টিস্যু থেকে সংগৃহীত এক অত্যন্ত পুষ্টিকর তৈলাক্ত উপাদান। এটি মূলত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (বিশেষ করে EPA এবং DHA) এর সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উৎস। এটি মানুষের হৃদরোগ প্রতিরোধ, মস্তিষ্কের বিকাশ এবং ত্বকের যত্নে একটি অপরিহার্য ‘সুপারফুড’ বা ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
আরও দেখুন আমাদের Pharmacy Chemical Collection
ভৌত রূপ ও বর্ণ
-
উপস্থিতি: এটি একটি স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার তৈলাক্ত তরল।
-
বর্ণ: এটি সাধারণত হালকা সোনালী বা হলুদাভ রঙের হয়ে থাকে।
-
গন্ধ: এতে মাছের একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মৃদু গন্ধ থাকে (তবে বর্তমানে রিফাইনড বা গন্ধমুক্ত সংস্করণও পাওয়া যায়)।
-
দ্রবণীয়তা: এটি পানিতে অদ্রবণীয়, তবে অ্যালকোহল এবং জৈব দ্রাবকে সহজেই মিশে যায়।
ফার্মাসিউটিক্যাল ও নিউট্রাসিউটিক্যাল বৈশিষ্ট্য
-
হার্ট হেলথ: এটি রক্তে ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইড কমিয়ে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে।
-
অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি: এটি শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমাতে সাহায্য করে, যা জয়েন্টের ব্যথা বা আর্থ্রাইটিস নিরাময়ে কার্যকর।
-
মস্তিষ্কের বিকাশ: এতে থাকা DHA শিশুদের মস্তিষ্কের গঠন এবং বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি বজায় রাখতে সহায়ক।
-
দৃষ্টিশক্তি: চোখের রেটিনার সুস্থতা বজায় রাখতে ওমেগা-৩ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ
-
ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট: ফিশ অয়েল সফটজেল ক্যাপসুল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
-
কসমেটিকস: ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে, ব্রণ কমাতে এবং অকাল বার্ধক্য (Anti-aging) রোধে ফেসিয়াল অয়েল ও ক্রিমে ব্যবহৃত হয়।
-
পশুখাদ্য ও অ্যাকুয়াকালচার: মাছ ও গবাদি পশুর দ্রুত বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ফিড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
-
ফার্মাসিউটিক্যাল: উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ঔষধ তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
সতর্কতা ও নিরাপত্তা
-
অ্যালার্জি: যাদের সামুদ্রিক মাছে অ্যালার্জি আছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত।
-
রক্ত পাতলা হওয়া: এটি প্রাকৃতিকভাবে রক্ত কিছুটা পাতলা করতে পারে, তাই অস্ত্রোপচারের আগে বা রক্ত পাতলা করার ঔষধের (যেমন: Warfarin) সাথে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
-
অক্সিডেশন: ফিশ অয়েল খুব দ্রুত বাতাসে নষ্ট বা র্যানসিড (Rancid) হয়ে যায়, তাই এর সতেজতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
সংরক্ষণ পদ্ধতি
-
সুরক্ষা: সরাসরি সূর্যের আলো এবং বাতাস থেকে দূরে রাখুন।
-
তাপমাত্রা: এটি সবসময় শীতল ও অন্ধকার স্থানে রাখা উচিত (ফ্রিজে রাখা ভালো)।
-
প্যাকেজিং: অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না এমন এয়ার-টাইট এবং রঙিন বোতলে সংরক্ষণ করুন।
FOLLOW US ON: Facebook

Reviews
There are no reviews yet.